অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি ও জমি খারিজ করার পদ্ধতি জানুন

আজকের পোস্টটিতে আমরা অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি ও জমি খারিজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই আপনারা যদি অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি ও জমি খারিজ করার পদ্ধতি
পোস্টসূচীপত্রঃবাংলাদেশের জমি খারিজ করা বলতে জমির নামজারি করাকেই বুজায়। আর আপনি যদি একটি জমি ক্রয় করে থাকেন, আর সেই জমির যদি খারিজ না করেন তাহলে আপনি বিপাকে পরতে পারেন। তাই কিভাবে এই কাজগুলো করতে সেটা জানতে আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

ভূমিকা

নিজের নামে জমির রেকর্ড করার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু করা রয়েছে তাকে জমি খারিজ বা নাম ধরে খারিজ বলা হয়। আগের সময় জমি সম্পর্কিত সকল ধরনের তথ্য সকল ধরনের কার্যক্রম নির্দিষ্ট ভূমি অফিসে গিয়ে কাজ করা লাগতো।তবে এখন বর্তমানে বাংলাদেশ ডিজিটালাইজ হওয়ার কারণে এই সকল কাজ অনলাইনে করে নেওয়া সম্ভব। অনলাইন এর মাধ্যমে আপনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার মাধ্যমে এ কাজটি করতে পারবেন।
আপনি যদি আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকেন তাহলে আপনি জমি খারিজ করতে কি কি কাগজ লাগে, জমির খারিজ করতে কত টাকা লাগে, জমি খারিজ না করলে কি হয়,অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি,জমির খারিজ চেক এই সকল তথ্য ছাড়াও আরো বিস্তারিত সকল তথ্য জানতে পারবেন। তাহলে চলুন এখন আর দেরি না করে বিস্তারিত আলোচনা চলে যাওয়া যাক।

জমি খারিজ বা নামজারি কি

জমি খারিজ বলতে বোঝায় কোন জমি ক্রয় করার সূত্রে অথবা পিতা পুত্রের উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হওয়ার পরে সেই মালিকানা নিজ নামের জন্য রেকর্ড করার পদ্ধতিকে জমি খারিজ করার পদ্ধতি বলা হয়। অথবা নাম খারিজ করার পদ্ধতি বলা হয়। আর এই কাজগুলো পূর্বে ভূমি অফিসে গিয়ে কাজ করা লাগতো।

কিন্তু বর্তমানে সকল কাজ আপনি অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে করে নিতে পারবেন। বর্তমান সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে জমির পুরনো মালিকের পরিবর্তন করে নতুন মালিকের নামে একটি নতুন একটি জমির খারিজ তৈরি করা সম্ভব খুব সহজেই।

এই কাজগুলো করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসে দৌড়াদৌড়ি করার মাধ্যমে অনেক পরিশ্রম করা লাগতো। তবে এই সকল কাজ এখন আপনি অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে করে ফেলতে পারবেন। তাহলে আসুন আমরা এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেই।

জমি খারিজ করার পদ্ধতি

আপনি যদি আপনার নিজ নামের জমিগুলো খারিজ করতে চান অথবা আপনার জমির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে চান তাহলে নিম্নের দেখানো সকল নিয়মগুলো আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। কারণ এই সকল নিয়মগুলো একটি আয়না লোক প্রক্রিয়া। তাই এগুলো আপনাকে সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে

জমির জন্য একটি নতুন দলিল তৈরি বানানঃ জমি খারিজ করার মধ্যে সর্বপ্রথম পদ্ধতি হলো জমির জন্য একটি নতুন দলিল তৈরি করা। এখানে আপনার জমির বর্তমান মালিক এবং যে ক্রেতা বা গ্রহীতা বন ব্যক্তিটি জমি কিনেছে তাদের মধ্যে একটি নতুন দলিল তৈরি করে নিতে হবে।

তবে এই কাজটি সবথেকে ভালো হয় আপনি যদি ভূমি মন্ত্রণালয়ের রেজিস্টার অফিসে গিয়ে কাজটি করেন। এই জমির দলিলে কিছু পরিমাণ তথ্য উল্লেখ করাই থাকতে হবে। যে সকল বিবরণ উল্লেখ করতে হবে সেগুলো হলোঃ
  • জমির পরিমাণ
  • জমির অবস্থান
  • বিক্রয়কৃত দাম
  • পরিশোধের শর্তাবলী
এছাড়াও জমির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সকল তথ্য ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে দলিলটা যেন অবশ্যই অবশ্যই নোটারি পাবলিকস সামনে স্বাক্ষর যুক্ত হয়।

ই নামজারি আবেদনঃ এ পর্যায়ে দ্বিতীয় ধাপটি হলো জমির জন্য অবশ্যই জমি খারিজ করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিকটই নামজারি আবেদন করতে হবে। বর্তমানে এই সকল কাজ অনলাইনে করে ফেলা সম্ভব তাই একে এই নামজারি ও বলা হয়ে থাকে। এ ধরনের কাজ বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটা একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করে সেখানে করে দেওয়া সম্ভব।

আপনি যখন নামধারী আবেদন করবেন তখন অবশ্যই কয়েকটি বিষয়ে আপনাকে সংযুক্ত করতে হবে। সেই সকল কয়েকটি বিষয়গুলো হলো
  • দলিলের কপি
  • জমির বর্তমান মালিক এবং জমি ক্রয়ে আগ্রহি ব্যাক্তির পরিচয়
  • অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
আপনি যখন এখানে প্রবেশ করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সঠিকভাবে সফলভাবে একটি নাম যার জন্য আবেদন করবেন, আপনার আবেদনটি সম্পন্ন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আপনাকে সেখানে ডাকা হবে একটি শুনানির জন্য।

শুনানি তে অংশগ্রহণঃ আপনি যখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসের ওয়েবসাইট থেকে ই নামজারিতে আবেদন করবেন তখন একজন নির্দিষ্ট তারিখে আপনাদের জমির মালিক এবং নতুন জমির মালিক কে ডাকা হবে। সেখানে গিয়ে আপনাদের দুজনকেই জমি সংশ্লিষ্ট সকল ধরনের প্রশ্ন করা হবে। আর কারো কোন দাবি থাকলে সেটাও বলা হবে। অবশ্যই আপনাকে এই শুনানিতে অংশগ্রহণ করতেই হবে।

নামজারির আদেশ ও মালিকানা পরিবর্তনঃ আপনাদের সকল শুনানি কাজ সম্পাদন হওয়ার পরে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন নির্ধারিত ব্যক্তি যিনি হলেন জজ, আপনাদের শোনানের উপর তিনি একটি আদেশ জারি করবেন। আর এই আদেশের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের নতুন মালিক তিনি জমির একটি মালিকানা অর্জন করবেন।

নতুন মালিক জমির মালিকানা অর্জন করার পাশাপাশি পুরাতন মালিক সেই জমির মালিকানা হস্তান্তর করবেন নতুন মালিকের হাতে। আর এই চারটি ধাপের মাধ্যমে আপনি আপনার জমির খারিজ করতে পারবেন।

অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি

অনলাইনের মাধ্যমে কিভাবে জমির খারিজ করতে হয় আপনি কি এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত? আমরা আপনাকে এখনই জানিয়ে দেবো কিভাবে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে জমি খারিজ করবেন। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এখন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে জমির খারিজ করার সম্পর্কে।
অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি ও জমি খারিজ করার পদ্ধতি
বর্তমান সময়ে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি ভূমি সেবার নতুন সিস্টেম চালু করেছেন। যার ফলে দেশের সকল নাগরিক ঘরে বসেই জমির খতিয়ান চেক করা, অনলাইনের মাধ্যমে জমির খতিয়ান আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইন এর মাধ্যমে আপনার জমের সকল তথ্য বের করতে পারবেন। জমির খাজনা প্রদান করতে পারবেন।

কিভাবে এই সকল কাজগুলো করবেন সে সম্পর্কে আমরা একটু পরে আপনাকে জানিয়ে দিব। আর এই সকল কাজ করার জন্য আপনাকে নিজে একটি সরকারি খাজনা পরিশোধ করার ওয়েবসাইটের লিংক প্রদান করলাম। আপনি এই ওয়েবসাইটের ভেতরে ঢুকে আপনার জমি সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবেন।

জমি খারিজ করার লিংকঃ https://mutation.land.gov.bd/

জমি খারিজ করতে কি কি কাগজ লাগে

আপনি যখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসে অথবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে জমি খারিজ করতে চাইবেন তখন আপনাকে কিছু ডকুমেন্ট প্রদান করতে হবে। কোন কোন কাগজপত্র প্রদান করতে হবে সেগুলো যদি আপনি আগে থেকে জেনে থাকেন তাহলে আপনার কাজটি আরো অনেক সহজ হয়ে যাবে। চলুন জেনে কোন কোন কাগজপত্র প্রদান করতে হয়।
  • জমি খারিজের আবেদনকারির ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • জমির ক্রয়কৃত নতুন মালিক এবং জমির পুরাতন মালিকের ভোটার আইডি কার্ড
  • জমির ক্রয়কৃত নতুন মালিক এবং জমির পুরাতন মালিকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • জমি খারিজের আবেদন ফরম
  • পুরাতন জমির দলিলের ফটোকপি
  • ক্রয়কৃত জমির নতুন নথি/দলিল
  • জমির সবশেষ ক্ষতিয়ান
  • আর এস খতিয়ানের ফটোকপি
  • উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ও জন্ম সাল,তারিখ,মাস
  • আবেদনকারির সকল ঠিকানা/বর্তমান/স্থায়ী
  • জমির সর্বোশেষ খতিয়ান
  • জমির ওয়ারিশ নামা
আপনি যখন অনলাইনের মাধ্যমে জমি খারিজ করবেন, তার পূর্বে আপনাকে উপরে উল্লেখিত সকল তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে বসতে হবে। এটি আপনি যেকোন কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের মাধ্যমে ব্যবহার করে কাজটি করে ফেলতে পারেন। তবে অবশ্যই ফোন ব্যবহার করবেন না। কারণ এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করা হবে।
আপনি যখন ফোন ব্যবহার করে কাজগুলো করবেন তখন এই তথ্যগুলো সঠিকভাবে নাও বসাতে পারে। তাই আমরা আপনাকে সাজেস্ট করব কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে কাজ করবেন। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন হলো অবশ্যই আপনি একজন দক্ষ ব্যক্তির দ্বারা কাজটি করে নিবেন।

আপনি এই কাজটি করার জন্য যে কোন কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে কাজটা করে নিতে হবে। সকল তথ্য আপনি সংগ্রহ করে কম্পিউটার থেকে পূর্বেই আপনি এই সকল তথ্যগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে JPG, PNG, PDF ফাইল তৈরি করে নিবেন। তার পরে সকল তথ্য ওয়েবসাইটের মধ্যে সঠিকভাবে বসিয়ে দিবেন।

জমির খারিজ করতে কত টাকা লাগে

আমরা তো ইতিপূর্বে উপর থেকে সকল তথ্য জানতে পারলাম। এখন আমাদের সকলের মনে একটি তথ্য জানার জন্য অনেক ঘুরপাক খেতে পারে। সেটি হলো আমরা যে জমি খারিজ করব এই জমি খারিজ করতে কত টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। আর এমন সকল প্রশ্ন যে কোন মানুষের মনে ঘুরে বেড়াবে এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাহলে চলুন এ বিষয়ে সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক।

যখন একটি জমে ক্রয় বা বিক্রয়ের মাধ্যমে কোন একটি প্রতিষ্ঠান আইনক বৈধভাবে জমির মালিকানা অর্জন করে তখন সরকারি ভলিউম খাতায় মালিকানার নাম আপডেট করা হয়। আর এই নতুন নাম সংযোজন এবং বিয়োজনকে বলা হয় নামজারি। যার অর্থ এই ধারায় যে বর্তমান খতিয়ানে থাকা পুরাতন মালিকের নামের পরিবর্তে নতুন নাম মালিকের নামে একটি খতিয়ান তৈরি করা।

এই আবেদন এবং লেখার ঝামেলার কাজ যখন সম্পন্ন হয়, তখন একটি নতুন নাম্বার বের হয় জমির খতিয়ান সম্পর্কিত। আর এই খতিয়ানটি জমির নতুন এক মালিককে একটি জমির নতুন খতিয়ানের নাম্বার সহকারে দেওয়া হয়। এ খতিয়ান না উল্লেখ থাকে জমির মালিকের নাম, সে জমির মৌজা, মৌজা নম্বর, জমি যোগাযোগ করার দাগ নম্বর, সেখানে কতটুকু জমে রয়েছে এ সকল তথ্য উল্লেখ করে একটি খতিয়ান তৈরি করা হয়।

এখন আসি আমরা নাম জানি খতিয়ান করার জন্য কত টাকা আমাদের খরচ হয় বা লাগতে পারে। আপনি যদি এই কাজটি করার কথা ঝামেলা মনে করেন তাহলে আপনি নিশ্চয় একজন দালালকে ধরবেন। আর এই দালাল আপনার এ কাজ করার বিনিময় অনেক টাকা দাবি করে থাকে।

তবে আপনাকে অবশ্যই জেনে রাখা উচিত জমির নাম জানি করতে খুব একটা বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আপনি যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে চলুন এখন আমরা সেই সম্পর্কে জেনে রাখি। তার সাথেও জেনে নিয়ে আমরা আমাদের এখানে কত টাকা খরচ হতে পারে।

নামজারির খরচঃ
  • কোর্ট ফি ২০
  • নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা
  • রেকর্ড সংশোধন ১০০০ টাকা
  • খতিয়ান ফি ১০০ টাকা।
  • সর্বমোট নামজারির খরচ ১১৭০ টাকা।
এই ১১৭০ টাকাই আপনার নাম জারি জমির খারিজ করার সকল খরচ। এর থেকে বেশি একটি টাকার প্রয়োজন হয় না। আশা করছি আপনাকে সম্পূর্ণ বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি। এরপরেও যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি আমাদেরকে মন্তব্য করার মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারেন।

জমি খারিজ করতে কতদিন সময় লাগে

আমরা তো সকল ধরনের তথ্য জানলাম। জমি খারিজ করার জন্য কত টাকা প্রদান করতে হবে সেই সম্পর্কে তথ্য জানলাম। এখন হয়তো আপনাদের অনেকের মনে এমন তথ্য ঘুরপাক খাচ্ছে যে, আমরা তো জমির খারিজের জন্য সকল টাকা পয়সা প্রদান করলাম এখন আর জমির খারেজ আমরা কতদিন পরে হাতে পাব। অথবা জমির খরচ করার জন্য কতটুকু সময় লাগবে। এখন আপনাদের আমি এই সকল প্রশ্নেরই আনসার দিব।

আপনি যদি জমি খারিজ করার সকল নিয়ম মেনে জমির সকল তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে একটি সঠিকভাবে জমে খারিজ করার আবেদন করে থাকেন তাহলে আপনার জমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনার জমিটি মহানগর এলাকায় হয় তাহলে আপনার জমি খারিজ করার ক্ষেত্রে ৬০ কার্য দিবসের বেশি সময় লাগবে না। অর্থাৎ আপনার জমির খারিজ ৬০ কার্য দিবসের মধ্যেই আপনি হাতে পেয়ে যাবেন।

যদি আপনার জমিটি উপজেলা অথবা জেলা পর্যায়ে হয়ে থাকে তাহলে আপনার জমিতে হারেজ করতে সরকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪৫ কার্য দিবস পর্যন্ত সময় লাগবে। যার অর্থ এই ধারায় যে আপনি ৪৫ দিনের মধ্যেই আপনার জমির খারিজের নম্বর এবং যমের খারেজ হাতে পেয়ে যাবেন।

যদি কোন প্রবাসী জমি করে থাকে মহানগর পর্যায়ে তাহলে তাদের জমি খারিজ করে সর্বোচ্চ ১২কারও দিবস পর্যন্ত সময় লাগবে। আর যদি জেলা অথবা উপজেলা পর্যায়ে অথবা যে কোন জায়গায় জমি ক্রয় করে থাকে তাহলে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী নয় কার্য দিবস পর্যন্ত সময় লাগবে। যার অর্থ হল আপনি নয় কার্য দিবসের মধ্যেই আপনার জমির ক্ষারের সম্পন্ন হয়ে একটি নতুন খারিজ হাতে পেয়ে যাবেন।

এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো তাহলে চলুন এখন আমরা এই বিষয়ে একটু সংক্ষিপ্ত আলোচনা দেখে নেই। যেখানে দেখে আপনি একবার বুঝে নিতে পারবেন আপনার কোন জনের খরচ করতে কতটুকু সময় লাগবে। আপনি অনলাইনের মাধ্যমেও খুব সহজেই জমির খতিয়ান পর্চা অনুসন্ধান করে নিতে পারবেন।
  • মহানগর পর্যায়ে জমির খারিজ করার সময় লাগবে ৬০ কার্য দিবস।
  • জেলা উপজেলা ইত্যাদি পর্যায়ে জমির খারিজ করার সময় লাগবে ৪৫ কার্য দিবস।
  • প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দেশের মহানগর পর্যায়ে জমি খারিজ করার সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১২ কার্যদিবস।
  • প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দেশের জেলা-উপজেলা ইত্যাদি পর্যায়ে জমি খারিজ করার জন্য সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৯ কার্যদিবস।

জমি খারিজ না করলে কি হয়

জমি ক্রয় করার পর অবশ্যই জমির খারিজ প্রকৃত সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন ঝামেলার মধ্যে আপনি পড়তে পারেন। জমি ক্রয় করার পরে যেমন ভাবে আমরা সেই জমির প্রকৃত মালিকের নিকট হতে আমরা জমির রেজিস্ট্রি কোরিয়া নেই আর এটা হল জমির ক্রয়ের মালিকানার জন্য প্রথম ধাপ।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জমির পর সাথে সাথে সে জমির দলিলটা হাতে পাওয়া যায় না। আপনি যদি জমি করার পর জমির দলিলের হাতে না পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি জমির সার্টিফিকেট একটি কপি নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আপনি জমির খারিজের বিষয়টি করে ফেলবেন। আর আপনি যদি এমন কাজটি না করে থাকেন তাহলে, আপনার কাছে যত জমির দলিল থাকুক না কেন আপনার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে একটি মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে।

তাই আপনি জমির মালিকানা চেয়ে শুধরে অর্জন করেন না কেন সেটা ক্রয় সূত্রই হোক অথবা পথিক সূত্রে হোক, আপনি সেই জমি মালিকানা অর্জন করার সাথে সাথে জমির খারিজ করে নিবেন। আর আপনি এই কাজটি করার মাধ্যমে আপনার জমির একটি প্রকৃত মালিক হয়ে যাবেন। তখন এটি মনে হবে আপনার একটি নিজের জমি।

যার অর্থ এধারায় যে আপনি জমি ক্রয় করার পরও জমির যদি নামজারি সম্পূর্ণ না করেন তাহলে আপনি সেই জমি প্রকৃত মালিক বলে দাবি করতে পারবেন না। আর আপনি যদি এই কাজটি না করেন তাহলে আপনার জমিতে যমের পূর্বের প্রকৃত মালিক আপনার কাছে বিয়ে করার থেকে বেশি দাম দিয়ে অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিতে পারবে।

আপনি যদি জমি খারিজ না করেন তাহলে জমিতে সেই পুরাতন জমির মালিকের নামে রেজিস্টার করা থাকবে তখন তিনি জমিতে বিক্রয় করে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনি যখন জমির খারিজ কাজ সম্পন্ন করে নিবেন তখনই জমিতে সম্পন্ন আপনার হয়ে যাবে। অন্য কোন ব্যক্তি তখন আর তার ওপর হক জমাতে পারবে না।

আপনি যদি এমন কাজটি না করেন তাহলে আপনার জমিতে মামলা মোকদ্দমার ভেতর পড়ে যেতে পারে। আর জমের মামলা মোকদ্দমা মানে অনেক বিশাল ঝামেলা। যেখান থেকে উঠতে আপনার প্রায় কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে জমি ক্রয় করার পর পরে জমির খারিজ করে নিতে হবে।

জমি খারিজ ফরম

আপনার জমি খারিজ করার জন্য আপনাকে একটু ফর্ম কিনে অথবা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে সেই ফর্মটি পূরণ করে আপনাকে ভুমি মন্ত্রণালয়ের অফিসে জমা দিতে হবে। এখন আপনি ফর্ম কোথায় পাবেন এই নিয়ে আপনি চিন্তিত হয়ে যেতে পারেন। চলুন জেনে নেই আপনি কিভাবে খুব সহজেই এ ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।আপনি যদি জমি খারেজ করার ফরম খুঁজে থাকেন তাহলে যে কোন রেজিস্টার অফিসের সামনে ফটোকপির দোকানে পেয়ে যাবেন। 

জমির খারিজ সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্নঃ নামজারি করতে কত টাকা খরচ হয়?
উত্তরঃ নামজারি করতে খরচের টাকার পরিমাণ
  • কোর্ট ফি ২০
  • নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা
  • রেকর্ড সংশোধন ১০০০ টাকা
  • খতিয়ান ফি ১০০ টাকা।
  • সর্বমোট নামজারির খরচ ১১৭০ টাকা।
প্রশ্নঃ দলিল কত প্রকার কি কি?
উত্তরঃ দলিলের প্রকারভেদগুলো হলোসাফকবলা দলিল
  • দানপত্র দলিল
  • হেবা দলিল
  • হেবা বিল এওয়াজ
  • এওয়াজ দলিল
  • বণ্টননামা দলিল
  • অছিয়তনামা দলিল
  • উইল দলিল
প্রশ্নঃ জমি খারিজ করতে কি কি দরকার?
উত্তরঃ জমি খারিজ করার অন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
  • সংশ্লিষ্ট জমির এস এ খতিয়ানের ফটোকপি
  • আর এস খতিয়ানের ফটোকপি
  • জমির দলিলের ফটোকপি
প্রশ্নঃ জমির ডিসিআর কি?
উত্তরঃ জমির ডিসিআর হলো ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডিসিআর বলে।

প্রশ্নঃ জমির মিউটেশন মানে কি?
উত্তরঃ মিউটেশনের অর্থ হল হস্তান্তরের পর থেকে নতুন মালিক সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির কর পরিশোধ করবেন।

শেষ কথা ।জমি খারিজ করার পদ্ধতি

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিলো জমি খারিজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে। আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে অনলাইনে জমি খারিজ করার পদ্ধতি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। এই রকম তথ্যবহুল আর্টিকেল প্রতিদিন ফ্রীতে পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের ইনফো নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url