ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

ব্রেনস্টোক হলো একটি স্নায়বিক অবস্থা। যেখানে মানুষ একটি কেন্দ্রীয় ঘাটতি যেমন শরীরের দুর্বলতার অথবা চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটলে আমরা এটাকে ব্রেন বলি। আমরা অনেকেই ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। এই সম্পূর্ণ পোস্ট জুড়ে আমি ব্রেন স্ট্রোক এবং ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ এর সমস্ত বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব।
ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ
ব্রেন স্টোকের আরেকটি নাম হলো হেমোরেজিক স্ট্রোক অর্থাৎ আমাদের মাথার মস্তিষ্কের মধ্যে অথবা আশেপাশের রক্তপাতকে স্ট্রোক বলা হয়।ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়বেন।

ভূমিকা

ব্রেন স্টোক হলো একটি স্নায়বিক অবস্থা। যেখানে মানুষ একটি কেন্দ্রীয় ঘাটতি যেমন শরীরের দুর্বলতার অথবা চেতনা হারানোর মতো ঘটনা ঘটলে আমরা এটাকে ব্রেন বলি। ব্রেন স্টোক হল দুই ধরনের যেমন, এক ইসকেমিক স্টোক, ২ হেমোরেজিক স্ট্রোক। এই সম্পূর্ণ পোস্টটি জুড়ে ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আলোচনা করা হবে।ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে সম্পন্ন তথ্য জানতে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণ

ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে জানার পর আপনাকে জানতে হবে ব্রেন স্ট্রোক এবং এর লক্ষণ সম্পর্কে।বেন স্টোকের প্রাথমিক লক্ষণ হল হঠাৎ করে স্ট্রোকটি শুরু হবে। যেমন হাত এবং পা দুইটি একত্রে দুর্বল হয়ে পড়ল। অথবা আপনার শরীরের হাত এবং পা একত্রে বাঁকা হয়ে গেল। এটি ব্রেইন স্ট্রোকের প্রাথমিক একটি লক্ষণ। এবং এর সাথে সাথে কোন কোন রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও শরীরের আরো কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেমন, মাথাব্যথা। মাথাব্যথা টি সাধারণত বেশিরভাগ দেখা যায় হেমোরিজিক স্ট্রোকের সময়।
রক্তক্ষরণ অথবা স্টোক হলে ব্রেনের ভিতরে চাপ বেড়ে যায়। যার কারণে রোগীর বমি হতে পারে। সাধারণত ব্রেন স্ট্রোকের লক্ষণ হচ্ছে আপনার শরীরের যে কোন এক সাইড অবশ হয়ে যাওয়া। আবার কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে দুই হাত এবং দুই পা অবশ হয়ে যেতে পারে। প্রধান যে প্রাথমিক লক্ষণ সেটি হচ্ছে রোগীর এক সাইড অবশ হয়ে যাবে, রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যাবে এবং রোগীর বমি হবে।
অথবা তার সাথে মাথা ব্যথা এবং শরীর খিচুনি দিয়ে উঠতে পারে। যদি এই প্রবলেমগুলো দেখা দেয় তাহলে বুঝবেন ওই রোগীর ব্রেন স্ট্রোক এবং এর লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলেই রোগীকে নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

ব্রেন স্ট্রোক হলে কি করনীয়

ব্রেন স্ট্রোক হলে সাধারনত একটি রোগীর পিছনে ঘা হতে পারে এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। কিছু কিছু লক্ষণ আছে এগুলো এক মাস বা তার কয়েক দিন পর হতে পারে যেমন তার হাত-পা শুকিয়ে যেতে পারে। ব্রেন স্ট্রো খাওয়ার সাথে সাথে যে চিকিৎসাটা দিতে হবে সেটি হলো একিউট ম্যানেজমেন্ট অথবা ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট। সাধারণত ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে,, রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে, রোগীর প্রেসার হাই হয়ে যেতে পারে অথবা রোগীর প্রেসার অনেক কমেও যেতে পারে।

এই প্রবলেম গুলা প্রাথমিকভাবে ইমার্জেন্সিতে গেলে সেই ডাক্তারেরা চিকিৎসা শুরু করে দেবে। এবং ডাক্তারেরা যা করে সেটি হল রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মাপে, ব্লাড প্রেসার মাপে এবং শরীরের সব কিছু রিচার্জ করার পর অক্সিজেন লাগলে অক্সিজেন দেয়। যদি রোগীর খিচুনি হয় তাহলে খিচুনির ঔষধ দেয়। তারপরে ওই রোগীকে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা হয়।

তারপরে যা করতে হবে রোগীর যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে সেটা ম্যানেজমেন্ট করতে হবে এবং যদি খিচনি থাকে খিচুনি ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। তাহলে যদি কারো স্ট্রোক হয় তাহলে উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পূর্ণ মেনে চলতে হবে। এবং মনে রাখবেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কিছু করবেন না।

ব্রেন স্ট্রোক রোগীর খাবার তালিকা

  • বাদাম
  • রসুন
  • সবুজ শাকসবজি
  • টমেটো
  • কফি ও গ্রিন টি
  • কলা
  • কুমড়োর বিচি
  • সামুদ্রিক মাছ
  • মিষ্টি আলু

ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

সাধারণত আমাদের দেহের ৭০% থেকে ৮০% স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্ট্রোক কমানোর এক নাম্বার উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। আপনাকে সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন ব্যায়াম করতে হবে। তার মধ্যে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আপনাকে এক্সারসাইজ করতে হবে। ব্যায়াম আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আর এই ব্যায়াম আমাদের ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তোর থেকে বাঁচার দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে আপনার শরীরের ব্লাড প্রেসার কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আর এই প্রেশার নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি বিভিন্ন কাজ করতে পারেন যেমন বেয়াম অথবা এক্সারসাইজ করতে পারেন। আর আপনি যত পারবেন মিষ্টি জাতীয় খাবার অথবা তেল ভাজা পড়া জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলবেন। কারণ এটি আপনাদের শরীরের জন্য খুবই খারাপ একটি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণত আপনার ওজন যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনার ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যায়। তাই স্ট্রোক কমাতে শরীরের ওজন ঠিক রাখুন।

সর্বশেষ যেই জিনিস থেকে আপনাকে বিরক্ত থাকতে হবে সেটি হল মাদক এবং ধূমপান আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে। মেইন স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ধূমপান ও মাদক। আপনি যদি ধূমপান না করেন কিন্তু আপনার ফ্যামিলিতে যদি কেউ ধূমপান করে তাহলে আপনি ভুক্তভোগী হয়ে সেই রোগের শিকার হবেন। তাই আপনি এবং আপনার ফ্যামিলিকে বাঁচাতে ধূমপানকে না বলুন।

ব্রেন স্ট্রোক হলে কি হয়

ব্রেন স্টোক হলে সাধারনত একটি রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যেতে পারে। ব্রেন স্ট্রোকের প্রাথমিক যেই কারণ বা লক্ষণ সেটি হলো রোগীর শরীরের এক সাইড অবশ হয়ে যাওয়া এবং রোগীর মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া। ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগীর কিছু নিয়ম হতে পারে। রোগীর ব্লাড প্রেসার বেড়ে যেতে পারে অথবা রোগীর ব্লাড প্রেসার কমেও যেতে পারে। আমার ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগীর দুই হাত এবং দুই পা পুরোটাই অবশ হয়ে যেতে পারে।

ব্রেন স্ট্রোক হলে রোগীরারও দেই প্রবলেমগুলো হয় সেগুলো হলো রোগীর ব্রেনের সমস্যা। রোগীর স্মিতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে রোগী কাউকে চিনতে পারেনা এবং ভুলভাল বকে। ব্রেন স্ট্রোক হলে সাধারণত আরেকটি প্রবলেম হয় সেটি হল রোগীর পিছনে ঘা ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোক হলে সাধারণত এই লক্ষণগুলোই দেখা দেয়।

ব্রেন স্ট্রোক কেন হয়

সাধারণত ৮০ থেকে ৯০% স্ট্রোকের কারণ হচ্ছে মানুষের শরীরের রক্তনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। আরো ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট স্টোক হয় মানুষের দেহের রক্তনালী ছিড়ে যাওয়ার জন্য। সাধারণত ইশকেমিক স্ট্রোকের কারণ রোগীর রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে।

স্ট্রোক বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন, রক্তে চর্বি বেড়ে যাওয়া, অলস জীবন যাপন করলে, বেশি টেনশন করলে, খারাপ খাদ্য অভ্যাস করলে সেটিস্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়স। তাই ব্রেন স্ট্রোক থেকে বাঁচতে উপরের নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। সুস্থ এবং সুন্দর জীবন যাপন করুন।

ব্রেইন স্ট্রোকের ঔষধ

আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের মাথায় নানান চিন্তা বাসা বাঁধে। সেইটা দূর করার জন্য Nootropil C Tablet এর স্বাভাবিক দোষ প্রতিদিন ১০০০ থেকে ২০০০ মিলিগ্রাম সেবন করতে পারেন। ইস্কিমিক স্ট্রোকের জন্য আপনি প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫০০ থেকে ২০০০ মিলিগ্রাম শুরু করতে পারেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখবেন তাহলে পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাবেন না অথবা ব্যবহার করবেন না। এমন কি কোন ইনজেকশনও শরীরের মধ্যে ঢুকাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নিন তারপর বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহার করুন। সব জিনিসের জন্যই সতর্কতা ব্যবহার করবেন।

শেষ কথা

আশা করি এই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার পর আপনার ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা হয়ে গেছেন। ব্রেন স্ট্রোক সম্পর্কে পোস্টটি পড়ে ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন এবং নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্যের সমাধান পেতে আমার ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের ইনফো নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url