জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা - বেবি জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা জিংক ২০ ট্যাবলেট এর নাম শুনেছেন। আজকের পোস্টটিতে আপনারা বেবি জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম এবং জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।কোন খাবারে জিংক পাওয়া যায় এ সম্পর্কে জেনে আপনাদের জিংক ট্যাবলেট খাওয়া উচিত। জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা রয়েছে যা আপনাদের জেনে নেওয়া উচিত।জিংক ২০ ট্যাবলেট সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম - জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা
আমাদের দেহের এনজাইমগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য জিংক ট্যাবলেট এর ভূমিকা রয়েছে। জিংকের আরেকটি সংক্ষিপ্ত নাম রয়েছে যেটি হল দস্তা নামে পরিচিত। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ সবল মানুষের দৈনিক প্রতিদিন ২০ গ্রাম জিংক এর দরকার হয়। কেননা জিংক আমাদের দেহের অনেক উপকার করে থাকে। তাই আমাদের জিংক এর উপকারিতা জানার আগে কোন খাবারে জিংক পাওয়া যায় তা জানতে হবে।

কোন খাবারে জিংক পাওয়া যায়

নানা ধরনের খাবারে জিংক পাওয়া যায়। জিংক যে আমাদের শরীরের জন্য কত উপকারী তা আপনারা বুঝতে পারছেন। তাই জিংক জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তার মধ্যে কিছু জিংক রয়েছে এমন খাবারের তালিকা দেওয়া হল।
  • দুগ্ধজাতীয় খাবার
  • ওট
  • ডার্ক চকলেট
  • বাদাম
  • শাকসবজি
  • ডিম
  • মাংস
  • নানা ধরনের শস্য জাতীয় খাবার
  • রেডমিট
  • মুরগির মাংস
  • কাজু বাদাম
  • মাশরুম
  • মিষ্টি কুমড়ার বিচি
নিম্নে খাদ্যগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো।

মাশরুমঃ মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন সি ও আয়রন জাতীয় উপাদান। মাশরুমে সাধারণত ২২০ গ্রামের জিংক পাওয়া যায়।

দুগ্ধ জাতীয় খাবারঃ দুধ ও দইকে দুগ্ধজাত খাবার বলা হয়ে থাকে।দুগ্ধজাত খাবারে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি জিংক ও উপস্থিত থাকে। ২৬০ মিলিলিটার দুধে ১.০৮ মিলিগ্রাম জিংক থাকে। তবে ৩০০ মিলিগ্রাম দইয়ে থাকে ৩.০০ মিলিগ্রাম জিংক।

র্ডাক চকলেটঃ এছাড়া ডার্ক চকলেট এও জিংক রয়েছে। ডার্ক চকলেট যত গারো ডাক হবে ততো জিংকের পরিমাণ বেশি হবে। তবে ২০০ গ্রাম র্ডাক চকলেটে জিংক থাকে ৬.৬ মিলিগ্রাম। এছাড়া এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহের রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

শাকসবজিঃ কিছু উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারে সমান পরিমাণে জিঙ্ক থাকে, যেমন লেগুম, ছোলা এবং মটরশুটি। এই সবজিগুলোতে ক্যালোরি, চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবার কম। ২০০ গ্রাম ডালে ৮.8 মিলিগ্রাম পর্যন্ত জিঙ্ক থাকতে পারে। ২০০ গ্রাম জিঙ্কে ১০ মিলিগ্রাম এবং ১৯৫ গ্রাম সিমে ২ মিলিগ্রাম।

জিংক ২০ ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

জিংক ২০ ট্যাবলেট খাওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে যা আপনাদের জেনে খাওয়া উচিত। সব কিছুর খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণ জিংক ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন তাহলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। আপনারা যারা প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন তারা প্রতিদিন দুটি করে জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন অর্থাৎ রাতে একটি এবং সকালে একটি করে খাবেন। 

তবে খাওয়ার আগে খেতে চাইলে কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে খেতে হবে। আর যদি খাওয়ার পর খেতে চান তাহলে কমপক্ষে দুই ঘন্টা পর জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন। এই ট্যাবলেট খেলে তেমন কোন সমস্যা নেই তবে যদি অতিরিক্ত পরিমাণ খান তাহলে ডায়রিয়া সহ বমি বমি ভাব হতে পারে। এজন্য নিয়ম মেনে খাবেন।

জিংক এর অভাবে কি হয়?

জিংক এর অভাবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে চলুন আমরা জেনে নেই সমস্যা গুলো।
  • গর্ভবতী মায়েদের জিংক এর অভাব হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।
  • মানবদেহে জিংক এর অভাব হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
  • এছাড়া জিংকের অভাব হলে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।
  • চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
  • অনেক সময় দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হতে পারে।
  • দেহের হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
  • পড়ালেখায় মনোযোগের ঘাটতি দেখা যেতে পারে।
  • মানসিক দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে।
  • ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া হতে পারে জিংকের অভাবে।
  • দেহের দৈহিক বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করতে পারে।
  • ছেলেমেয়েদের মুখে ব্রণের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • জিংক এর অভাবে দেহে অর্থাৎ মুখে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
  • এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যুবকদের যৌন ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
  • ছত্রাক জনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।
  • যেকোনো কাজে মনোযোগ বসাতে সমস্যা হয়।
  • শারীরিক ও মানসিক অবসাদগ্রস্ত মনে হয়।

বেবি জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

শিশুদের যদি বা বেবিদের যদি জিংকের অভাব হয়ে থাকে তাহলে তাদের জিংক ট্যাবলেট নিয়ম অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। বেবিদের সাধারণত অপর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্য ঘাটতি এবং শোষণের কারণে জিংকের অভাব হয়ে থাকে। এছাড়া শিশুদের ডায়রিয়া ও প্রোটিন ক্ষয়ের ফলে জিংক এর অতিরিক্ত ঘাটতি দেখা দেয়। বেবিদের স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জিংক খাওয়াতে হবে।
বেবি অর্থাৎ শিশুর ওজন ১০ কেজির নিচে হলে ৫ মিলি বা এক চা চামচ দৈনিক দুইবার খাবারের পর খাওয়াতে হবে। আর বেবির বয়স ১০ থেকে ৩০ কেজি হয় তাহলে ১০ মিলি অর্থাৎ দুই চা চামচ দৈনিক খাবারের পরে খাওয়াতে পারেন। অবশ্যই খাবারের পর প্রতিদিন এক থেকে তিনবার খাওয়াবেন। আর প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওজন ৩০ কেজি এর বেশি হলে 20 মিলি অর্থাৎ চার চা চামচ প্রতিদিন এক থেকে তিনবার খাবার পরে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই পেশাদার চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ নিবেন।

জিংক ট্যাবলেট খেলে কি হয়

আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জিংক ট্যাবলেট অধিক কার্যকরী। গবেষণা দেখা গেছে নিয়মিত জিং ট্যাবলেট খেলে সর্দি কাশি এবং প্রদাহ ও তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদের সারা বছর সুস্থ রাখতে ভূমিকা পালন করে। আপনার ত্বকের সমস্যাকে বিদায় জানান কারণ এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের ক্ষত নিরাময় করতে সহায়তা করে। 

ফলে আপনার ত্বক হয় উজ্জ্বল ত্বক ও দাগ মুক্ত বর্ণ। এমন কি পড়াশোনা অমনোযোগী হলেও আপনারা জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন। বিশেষ করে আপনাদের মধ্যে যাদের যৌন সমস্যা রয়েছে এবং যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান তারা জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন। তাহলে বুঝতে পারছেন জিংক ২০ ট্যাবলেট এর কাজ কি।

শরীরে কেন জিংকের অভাব হয়?

বিভিন্ন কারণে শরীরে জিংকের অভাব হতে পারে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
  • দেহের পুষ্টির ঘাটতে বা পুষ্টিহীনতায় ভুগলে জিংকের অভাব দেখা দিতে পারে।
  • এছাড়া যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তাদের দেহে জিংকের অভাব হতে পারে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে মাদকদ্রব্য বা মদ্যপানে দেহে জিংকের অভাব দেখা দিতে পারে।
  • এছাড়া শরীরে লিভার সমস্যা থাকলে জিংকের অভাব থাকতে পারে।
  • যাদের কিডনিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা রয়েছে তাদের জিংকের অভাব হতে পারে।

জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা - জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার উপকারিতা

জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা আমাদের সকলের জানা উচিত এবং অবশ্যই জেনে জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম জানতে হবে।জিংক ট্যাবলেট খেলে কি কি উপকার হই তা সম্পর্কে দাওয়া হল ।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • কোন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে তা সেরে যায়।
  • পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ও তার যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ডায়রিয়া এবং বমি বমি ভাব দূর করে।
  • দেহের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে।
  • ছেলেমেয়েদের চুল পড়া বন্ধ করে থাকে।
  • পড়াশোনায় মনোযোগী ভাব সৃষ্টি হয়।
  • মুখের ব্রণ ধীরে ধীরে ঠিক হতে থাকে।
  • ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে।
  • তাছাড়া জিহ্বায় ঘা থাকলে তা সারাতে সাহায্য করে।
  • দেহের কোন ক্ষত থাকলে তা নিরাময় করতে কাজ করে।
  • দেহে জিংক এর অভাব থাকলে তা পূরণ হয়।
  • মানসিক দুশ্চিন্তা বা অবসাদ কমে যায়।
  • যে কোন কাজে অমনোযোগী ভাব দূর হয়।
  • যাদের একজিমা রয়েছে তা ধীরে ধীরে সেরে যায়।
  • দেহে ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • মায়েদের ক্ষেত্রে নবজাতক শিশুর বৃদ্ধি বিকাশ করে অর্থাৎ বামনত্ব বা অপরিপক্কতা দূর হয়।
  • ক্ষুধা জনিত সমস্যা দূর হয়ে যায়।
  • খাবারের ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।
  • ঠান্ডা কাশি অর্থাৎ ঠান্ডা লাগলে তা সেরে যায়।

জিংক ২০ ট্যাবলেট এর দাম কত?

প্রতিটি পিস জিংক ২০ ট্যাবলেট দাম ৩ টাকা ৫০ পয়সা মাত্র। অর্থাৎ প্রতিটি জিংক 20 ট্যাবলেট এর দাম ৩ টাকা ৫০ পয়সা। তবে বর্তমানে দামের পরিবর্তন হতে পারে।

শেষ কথা

আশা করছি আপনারা জিংক ট্যাবলেট সম্পর্কিত সকল কিছু জানতে পেরেছেন। জিংক কেন খাবেন এবং এর উপকারিতা রয়েছে। আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব থাকলে জিংক ট্যাবলেট খেতে পারেন। এ ধরনের নতুন নতুন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের ইনফো নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url