ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা - ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম

আমরা সকলেই ইসবগুলের ভুসির নাম শুনেছি। এটি আমাদের অনেক উপকার করে থাকে। তবে আপনারা কি জানেন ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। যদি না জেনে থাকেন তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের পোস্টটিতে আমরা খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় এবং ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব।
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম - ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা
আমরা কম বেশি প্রায় সকলেই জানি যে, আমাদে খাদ্য পরিপাক ক্রিয়ায় এবং খাদ্য হজম হওয়ার জন্য ইসবগুলের ভূসি অনেক ভালো পরিমাণে কাজ করে থাকে। তাহলে চলুন এখন আমরা খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় বিস্তারিত জেনে নেই।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার উপকারিতা

আমরা সকলেই ইসবগুলের ভুসি সম্পর্কে জানি। তবে এটি আমাদের কি কি উপকার করে থাকে সেটা সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। চলুন কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই ইসবগুলের ভুসি কি উপকার করে থাকে।ইসবগুলের ভুসিতে রয়েছে বিশেষ ধরনের পুষ্টি উপাদান যা খেলে আমরা অনেক উপকার পাবো।

এতে রয়েছে ৫৩% ক্যালোরি , ১৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৫ গ্রাম শর্করা ইত্যাদি সহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য এবংপেশাবের জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে তাহলে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেলে সেরে যাবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
যদিও কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ মনে হতে পারে, মারাত্মক এই কোষ্ঠকাঠিন্য আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ বাধা সৃষ্টি করে, যা আমাদের শরীরে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই ইসবগুলের ভুসি এই সমস্যা সমাধানে খুব সহায়ক এবং কার্যকরী ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই আপনারা যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে চান তাহলে নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন।

প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করা
আমাদের মধ্যে অনেকেরই প্রসাবের জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। তবে আপনারা এই সমস্যার সমাধান পেতে ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন।ইসবগুলের ভুসি প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করে এবং আপনার পেটকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমাতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল বিকাল  ইসবগুলের ভুসি খাবেন এভাবে এক সপ্তাহ ধরে বা তার বেশি দিন ধরে খাবেন দেখতে পাবেন আপনার প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়ে গেছে।

গ্যাস্ট্রিকের দূর করা
যাদের বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন কারণ ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে এই ইসবগুলের ভুসি অধিক কার্যকরী এবং উপকারী। এটি আপনার পাকস্থলীর মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক আস্তরণ তৈরি করে এবং পাকস্থলীতে হজমে সহায়ক এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে থাকে যার ফলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান হয়। আপনারা প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চা চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেতে পারেন এতে করে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা
ইসবগুল ডায়রিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া উপশম হয়। দইয়ে প্রোবায়োটিক রয়েছে যা পেটের সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে। এই সময়ে, এই তরলগুলি মল শক্ত করতে অবদান রাখে। এতে ডায়রিয়া সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। ডায়রিয়া হলে তিন টেবিল-চামচ কটেজ পনির ও দুই চা-চামচ ইসবগুল মিশিয়ে দিনে দুবার ভরা পেটে খান। নিয়মিত ইসবগুল খেলে আমাশয় থেকেও মুক্তি মিলবে।

 ওজন কমাতে বেশ উপকারী
এছাড়া আপনারা ওজন কমাতে ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন। এতে থাকা ফাইবার আপনার শরীরের হজম ধীরগতিতে হবে এবং আপনার ক্ষুধা কম লাগবে ফলে আপনি কম খাবার খাবেন, এতে করে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

হার্ট ভালো রাখতে
আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ইসবগুলের ভুসি রাখতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে খাদ্যতালিকাগত পুষ্টি উপাদান যা আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি পেটের স্নায়ু স্তরও গঠন করে এবং খাবারে কোলেস্টেরল উপস্থিত থাকলে শোষণে বাধা দেয়? এছাড়া এটি রক্ত থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল দূর করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে
এছাড়া নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আপনারা প্রতিদিন অবশ্যই এটি খাবেন কারণ এতে রয়েছে জিলাটিন যা আমাদের শরীরের গ্লুকোজ ভাঙ্গার প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয় এবং শরীরে সুগার কমাতে সাহায্য করে যার ফলে ডায়াবেটিস অনেকটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই আপনারা প্রতিদিন সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার অপকারিতা

আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলেন যা জানা অবশ্যই আপনার জন্য ভালো এবং এটি মনে রাখতে হবে সবকিছুর উপকারের পাশাপাশি অপকারও রয়েছে তেমনিভাবে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি কি উপকার হয় তা আমরা এখন জানতে পারবো। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক ইসবগুলের ভুসি অপকারিতা। তবে আপনি যদি নতুন নতুন ইসুবগুলের ভুষি খেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই পরিমাণ মতো খেতে হবে অধিক পরিমাণ খেলে এতে সাইড ইফেক্ট বা অপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
  • আপনারা যারা নতুন খাচ্ছেন তারা অধিক পরিমাণে এটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হতে পারে।
  • এছাড়া অধিক পরিমাণে খাওয়ার ফলে পেটে ব্যথা এবং ক্র্যাম্প পর্যন্ত হতে পারে।
  • অতিরিক্ত পরিমাণ বা যারা ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন না তারা খেলে ডায়রিয়া পর্যন্ত হতে পারে।
  • এটি যেমন ডায়রিয়া কমায় আবার অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে ডায়রিয়া রোগ বাড়িয়ে তোলে।
  • অধিক পরিমাণে ইসুবগুলের ভুসি খেলে আপনার গ্যাসের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • অনেক মানুষের ক্ষেত্রে ইসবগুলের ভুসি বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।
  • যাদের পেটে ব্যথার সমস্যা রয়েছে তারা ইসবগুলের ভুসি খেলে সমস্যা বাড়তে পারে।

ইসবগুলের ভুসি খেলে কি মোটা হওয়া যায়

আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে মোটা হতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খেলে কি কি উপকৃত হয় আমরা সকলে ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি। এই সকল উপকার ছাড়াও আপনি যদি আপনার শরীরের ওজন হ্রাস করতে চান তাহলে আপনি প্রতিদিন ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন।

ইসবগুলের ভুষিতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম রয়েছে। তাই আপনি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার শরীরের ওজন কমাতে চান তবে এটি আপনার জন্য হবে একটি স্বাস্থ্যকর উপায়। আপনি যদি ইসবগুলের ভুষি খান তাহলে এতে করে আপনার শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালরি জমে যাওয়ার ভয় থাকে না। যার প্রতিশ্রুতিতে আপনার শরীরের ওজন খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে নিয়া আসা যায়।

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম

আপনারা কি জানেন ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। নিয়ম মেনে খেলে অবশ্যই ভালো উপকার পাবেন এবং এই নিয়ম সম্পর্কে জানতে এই অংশটি ভালো করে পড়তে থাকুন। আপনি চাইলে এটি পানির সাথে ভিজিয়ে খেতে পারেন এতে ভালো উপকার পাবেন। তাছাড়া যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে খেতে পারেন এতে করে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

এছাড়া যাদের ডায়রিয়া হয়েছে তারা ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি ২০ মিলিলিটার টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার খাওয়ার পরে খেতে পারেন এতে করে আপনার ডায়রিয়া রোগ অনেকটা ভালো হয়ে যাবে।এই ইসবগুলের ভুসিতে থাকা আশ ওজন কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন সকালে ২ টেবিল চামচ ইসবগুলের ভুসি কুসুম গরম পানি ও অল্প পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।আপনি ইচ্ছা করলে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেতে পারেন।

গ্যাস কমাতে আপনি 1 কাপ ঠান্ডা জলের সাথে 2 চা চামচ ইসবগুলের ভুসি মেশাতে পারেন। এই সমস্যায় ভুগছেন এমন লোকেরা সাধারণত খাওয়ার পরে বুকজ্বালা এবং ফোলা অনুভব করেন। খাওয়ার পর এটি খেলে পেটে জ্বালাপোড়া কমে যাই। এতে খাবারের কারণে অ্যাসিডজনিত সমস্যা কমে। ফলে গ্যাস থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়া এটি আরো অনেক ধরনের উপকার করে থাকে এবং আপনি এটি প্রতিদিন পানি দিয়া ভিজিয়ে সরবত বানিয়ে খেতে পারেন।অনেক ভাল উপকার পাবেন।

ইসবগুলের ভুসি খেলে কি ওজন

আপনারা ইসবগুলের ভুসি খেলে ওজন কমাতে পারবেন। প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম পানির সাথে দুই চা চামচ ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে তার সাথে এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে প্রতিদিন সকালে বা খালি পেটে খেলে ভালো উপকার পাবেন যা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

ইসবগুলের ভুসি দাম

আপনার অনেকে আছেন যারা আমাদের কাছে ইসবগুলের ভুসি দাম জিজ্ঞাসা করেন। আমরা আজকে আপনাদের ইসবগুলের ভুসি দাম জানানোর চেষ্টা করব। বর্তমান বাজারে ইসবগুলের ভুসি দাম ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম পরিবর্তনশীল। দাম অনেক সময় ওঠানামা করে থাকে আপনারা বাজারে গিয়ে দাম ভালো করে দেখে শুনে নিবেন। তবে যত দাম বলছি তার আশেপাশে দাম রয়েছে।

ইসবগুলের ভুসি উপকারিতা ও অপকারিতা

আপনারা কি জানেন ইসবগুলের ভুসি উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে যা আপনার এখন জানতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি কি উপকারিতা ও অপকারিতা দিয়ে থাকে এই ইসুবগুলের ভুষি। এটি আমাদের হাটের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে এটি খেতে পারেন যা আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়া ডায়রিয়া রোগ সারাতে সাহায্য করে। আপনার হজমে সমস্যা থাকলে কিছুদিন ইসবগুলের ভুসি খাবেন দেখবেন ঠিক হয়ে যাবে অর্থাৎ হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। চলুন আমরা কিছু অপকারিতা জেনে নেই।
আরো পড়ুনঃ কোন খাবারে জিংক পাওয়া যায় ও জিংক ২০ ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
যারা নতুন নতুন এটা খাবেন তাদের সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রবলেম বা সমস্যা হতে পারে। নতুন নতুন খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। আবার যদি আপনি অধিক পরিমাণে খান সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে। যেমন ঘন ঘন বমি অথবা ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া যাদের পেটে সমস্যা রয়েছে তাদের পেট ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে অত্যাধিক পরিমাণে খাওয়ার ফলে। তাহলে আপনারা জানতে পারলেন কি কি সমস্যা হতে পারে এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে।

ইসবগুলের ভুসি কিভাবে তৈরি হয়

আমরা সকলেই ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি যে, ইসবগুল এক ধরনের গাছ। এ গাছটি হলো লতাগুলো গাছ। এই গাছটি এক ধরনের ঔষধি গাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের বীজ ভুসি ওষুধ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এইসব গুলোর ভূষি তৈরি করার জন্য প্রথমে ইসুবগুলের লতাগুলো গাছ হতে ইসবগুলের ফল সংগ্রহ করা হয়।

ইসবগুলের প্রতিটি ফলের দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ মিলিমিটার হয়ে থাকে। এবং প্রতিটি ফলের ভেতরে এর বীজ 3 মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। প্রথমে এই বীর সংগ্রহ করে খুবই আলতোভাবে বীজের গায়ে হতে বীজের খোসা আলগা করে ফেলে দেওয়া হয়। ইসবগুলের বীজ হতে খোসা আলাদা করার জন্য বিভিন্ন যাঁতাকল ছাড়াও আরো নানারকম আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ যন্ত্রপাতির ভেতরে বিভিন্ন ছোট রকমের পিন লাগানো থাকে। এই যন্ত্রের ভেতরে যখন ইসবগুলের ফল দিয়ে যন্ত্রটি চালু করা হয়, তখন যন্ত্রটি ঘুরতে থাকে। আর এ ঘোড়ার সাথে সাথে বীজের সাথে ঘষার লাগার সাথে ব্রিজের খোসা আলগা হয়ে যায়। তারপরে এই ইসবগুলের বীজ কে নিয়ে খোসা আলাদা করে তারপরে এর ভূষি বানানো হয়। যা অনেক ঔষধি গুণসম্পন্ন।

ইসবগুলের ভুসি কি থেকে তৈরি

ইসবগুলের ভুসি একটি গুল্ম জাতীয় গাছের ফল কে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত করে একে ব্যাবহার উপযোগি করে তোলা হয়। আর এটি যখন গুরো করে ব্যাবহার উপযোগি করে তোলা হয় তখন এটি ভূসির আকার ধারণ করে। তাই একে ইসবগুলের ভুসি বলা হয়। ইসবগুল গাছ লতার বা গুল্ম জাতীয় একধরণের গাছ।এই গাছের ফলের নাম হলো ইসবগুল।

এই গাছ সাধারণত দের থেকে দুই ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ইসবগুলের ফল অনেক ছোট হয় এবং এর ফুলের পাপড়ি অনেক সুক্ষ হয়। ইসবগুলের ফল সাধারণত দুই কোষ বিশিষ্ট হয়ে থাকে। এবং প্রতিটি ফলের দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ মিলিমিটার হয়। আর ফলের ভেতরে বীজের দৈর্ঘ্য ৩ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এই ফলকে পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ইসবগুলের ফল থেকে ভুসি বানানোহয়।

ইসবগুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায়

আমরা প্রায় সকলেই জানি ইসবগুলের ভুষির অনেক ঔষধি গুন রয়েছে। তাই এটি সকলে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ইসুবগুলের ভুসি খেয়ে থাকেন। আর সাধারণত যারা কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা বিভিন্ন গ্যাস্ট্রেকে ভুগতেছেন তিনারা প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভুসি খেয়ে থাকেন।

ইসব গুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায় এই রকম প্রশ্ন আমরা সকলেই কম্বেশি করে থাকি। কিন্তু জানি না যে ইসব গুলের ভুষি কতদিন খাওয়া যায়। চলুন তাহলে আমরা সকলেই এখন ইসবগুলের ভুসি কতদিন খাওয়া যায় সেই সম্পর্কে জেনে নেই। তা না হলে আমরা উপকার খুজতে গিয়ে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতি করে নিয়ে বসে থাকবো।

আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে খালি পেটে ইসবগুলের ভূসি খেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটানা ইসবগুলের ভুসি খাওয়া আপনার জন্য উচিত হবে না। এতে করে আপনি আরো নানান রকম সমস্যার সম্মুখিন হবেন। যেমন ডায়রিয়া সহ আরো অনেক কিছু।

আপনি যখন ইসবগুলের ভুসি খাবেন তখন খেয়াল রাখবেন যেন একতানা তিনদিন এর বেশি না হয়ে যায়। যদি আপনি একটানা ৩ দিন খাওয়ার পরেও আপনার অসুস্থতার কোন উন্নতি না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়

খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি আপনি যখন ভরাপেটে খাবেন তার থেকে বেশি আপনি উপকৃত হবেন যদি সকালে খালি পেটে খান। সকালে খালি পেটে খেলে এটি আপনার শরীরে কার্যোকারিতা বৃদ্ধি করার জন্য আরো অনেক বড় সুযোগ পায়। আপনি যদি খালি পেটে ইসবগুলের ভুসি খেলে কি উপকারিতা হয় সে সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে চলুন এখনই আমরা জেনে নেই  ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয়।
  • শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহযোগিতা করে
  • খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে
  • হাত-পা এর জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে
  • প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সারাতে সাহায্য করে
  • ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
  • ডাইরিয়া কমানোর জন্য সাহায্য করে
  • অ্যাসিডিটির হাত থেকে মক্তি পাওয়ার জন্য সাহায্য করে
  • হৃদরোগের ঝুঁকির মাত্রা কমায়
  • ওযন কমানোর জন্য ও অনেক উপকারি
  • রক্তে গস্নুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে
  • পাইলস প্রতিরোধ করার জন্য অনেক উপকারি

ইসবগুলের ভুসি খেলে কি হয় সে সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্নঃ ইসবগুলের ভুসি কখন খাওয়া ভালো?
উত্তরঃ সকালে অথবা দুপুরে, দুপুরে অথবা রাতে সারাদিনের তিন বেলার যেকোন দুই বেলা খাবার খাওয়ার পরে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া ভালো।

প্রশ্নঃ ইসবগুলের ভুসি কি কি কাজ করে?
উত্তরঃ ইসবগুলের ভুসি মানবদেহে বিভিন্ন ধরণের কাজ করে। যেমন কোষ্টকাঠিন্য দূর করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ডায়রিয়া কমায়, খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ ইসবগুলের ভুসি দিনে কতবার খাওয়া উচিত
উত্তরঃ ইসবগুলের ভুসি দিনে সাধারণত একবার খাওয়া উচিত।

প্রশ্নঃ ভুষি অর্থ কি?
উত্তরঃ ভুষি অর্থ হলো যেকোন ফসলের খোসা বা চোকলা।

প্রশ্নঃ ইসবগুলের ভুষি কি দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তরঃ ইসবগুলের ভুষি তৈরি হয় প্ল্যান্টাগো ওভাটা নামের একটি গাছের বীজ থেকে।

প্রশ্নঃ ইসবগুলের ভুসি খেলে কি মোটা হওয়া যায়?
উত্তরঃ না। তবে এতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম রয়েছে, তাই এটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর উপায়।

প্রশ্নঃ ওজন কমাতে ইসবগোল কখন খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ হ্যা। আপনি যদি আপনার শরীরের ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে খাবারের টিক আগ মুহুর্তে গরম পানিতে ইসবগুল মিশিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবু মিশিয়ে নিয়ে এই মিশ্রণটি খেতে হবে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা ইসবগুলের ভুসি সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে পেরেছেন। এছাড়া এটি কিভাবে খেতে হয় এবং খাওয়ার নিয়ম কি সহ এর উপকারিতা কি কি তা জানতে পারলেন। আশা করছি আপনারা তথ্য জেনে ইসবগুলের ভুসি নিয়মিত খেতে শুরু করবেন। যার ফলে আপনার শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। আর হ্যাঁ অবশ্যই অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।তাহলে এর প্রকৃত উপকারিতা পাবেন। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের ইনফো নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url