কিভাবে লম্বা হওয়া যায় - লম্বা হওয়ার উপায় জেনে নিন

আমাদের মধ্যে হয়তো অনেকেরই উচ্চতা বয়স অনুযায়ী তুলনামূলক কম। আমরা অনেকেই চাইলম্বা হতে এবং নিজেদেরকে সুদর্শন দেখতে। কিন্তু কিভাবে লম্বা হওয়া যায় বা লম্বা হওয়ার উপায় কি এই সম্পর্কে সম্পন্ন জ্ঞান না থাকায় বুঝতে পারি না কি করলে লম্বা হওয়া যায় ।তাই আজকে আপনাদেরকে আমি লম্বা হওয়ার বিষয়ে আপনাদের মনের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর এবং লম্বা হওয়ার বিষয় আপনাদের মনের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কিভাবে লম্বা হওয়া যায় - লম্বা হওয়ার উপায় জেনে নিন

যেমন ধরুন কি খেলে লম্বা হওয়া যায়,লম্বা হওয়ার শেষ বয়স,লম্বা হওয়ার ঔষধ আছে কিনা এবং ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে কিনা,লম্বা হওয়ার ব্যায়াম, ছেলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে লম্বা হওয়ার শেষ বয়স কত। এগুলো সব সম্পর্কে আপনাদেরকে জানাবো। তাহলে; চলুন শুরু করা যাক-

সূচিপত্রঃ

লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান যা বলে

বিজ্ঞানের মতে লম্বা হওয়া নির্ভর করে 80 % আমাদের পরিবারের উপর এবং 20% আমাদের নিজেদের উপর। অর্থাৎ ;আমাদের আশপাশের পরিবেশ এবং খাদ্যাভাসের উপর ।বেশিরভাগ উচ্চতা বৃদ্ধি হয়ে থাকে আমাদের পরিবারের বা অর্থাৎ পিতা-মাতার উচ্চতা অনুযায়ী। মানুষের দেহে লম্বা হওয়ার জন্য যে হরমোনটি কাজ করে সেটি হল HGH(হিউম্যান গ্রোথ হরমোন)।এই হরমোনটি আমাদের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই কার্যকারী ।বিজ্ঞানের মতে একটি মানুষের দেহে যদি HGH এবং মানুষের হাড়ের মধ্যে থাকা গ্রোথ প্লেট যদি ঠিক থাকে তাহলে লম্বা হওয়া সম্ভব।

লম্বা হওয়ার শেষ বয়স

আমাদের অনেকের ধারণা নেই যে ছেলেদের এবং মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধির বয়স বিভিন্ন হয়ে থাকে। সর্বোচ্চ কত বয়স পর্যন্ত একটি ছেলে অথবা মেয়ে লম্বা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট বয়স পরেও লম্বা হওয়ার শেষ বয়স কত তা সম্পর্কে অনেকের অজানা ।তাহলে চলুন জানা যাক  কত বয়স পর্যন্ত একটি ছেলে এবং মেয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।

মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধির বয়স

বিজ্ঞানীদের মতে একটি মেয়ের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ ;(পিতার উচ্চতা -5 ইঞ্চি + মাতার উচ্চতা/2) এই হারে হয়ে থাকে ।মূলত বয়সন্ধিকালে মেয়েরা দ্রুত লম্বা হয়ে থাকে ।যেমন 10 থেকে 18 বছর এরমধ্যে; এই সময়ের মধ্যে একটি মেয়ে একটি ছেলের থেকে খুব দ্রুত লম্বা হয়ে যায় ।তবে মেয়েদের বয়সন্ধি শেষ হতে হতে হাড়ের মধ্যে থাকা গ্রোথ প্লেট নষ্ট হয়ে যায় ।

যার ফলে হার বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে ।মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধির বয়স ধরা হয় 13 বছর পর্যন্ত কিন্তু তারপরেও অনেক মেয়ে 18 বছর পর্যন্ত লম্বা হয় ।কিন্তু ;আঠারো বছর পরে আর উচ্চতা বৃদ্ধি পায় না।

ছেলেদের উচ্চতা বৃদ্ধির বয়স

বিজ্ঞানীর মতে ছেলেদের উচ্চতা বৃদ্ধির চাট (মায়ের উচ্চতা + 5 ইঞ্চি + পিতার উচ্চতা/2) এই হারে হয়ে থাকে ।বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের উচ্চতা মেয়েদের তুলনায় ধীরগতিতে হলেও ছেলেদের উচ্চতা সর্বোচ্চ 21 বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে থাকে ।21 বছর পর ছেলেদের গ্রোথপ্লেট নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা কমে যায় ।তবে বিভিন্ন ব্যায়াম এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে 21 বছর পরেও 24 -25 বছর পর্যন্ত উচ্চতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

লম্বা হওয়ার উপায়

যেগুলো উপায় অনুসরণ করলে আপনি লম্বা হতে পারবেন এবার চলুন জানা যাক লম্বা হওয়ার উপায় বা লম্বা হতে যা যা করতে হবে গুলো সম্পর্কেঃ

  1. শরীরে গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন প্রদানের মাধ্যমে
  2. প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর দুধ পান করা
  3. নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ব্যায়ামের করা
  4. সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে যেমন নিয়াসিন সাপ্লিমেন্ট যাতে প্রাকৃতিক ভিটামিন b3 থাকে
  5. মানসিক চাপ টেনশন কমানো
  6. পর্যাপ্ত পরিমাণে 8 থেকে 10 ঘন্টা ঘুমানো
  7. ড্রাগ বা অ্যালকোহল পরিহার করা
  8. প্রচুর পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ লিন ভিটামিন গ্রহণ

কি খেলে লম্বা হওয়া যায়

উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের সবকিছু সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন ।তবে এমন কিছু বিশেষ খাবার আছে যেগুলো খেলে আপনার উচ্চতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করবো ।যেমন-

ডিম

ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ,জিংক ,মিনারেলস এবং ভিটামিন বি ইত্যাদি পুষ্টিগুণ থাকে ।যা আমাদের শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে ।এছাড়াও উচ্চতা বৃদ্ধিতে খুবই ভালো কাজ করে। সুতরাং আমাদের সবার উচিত খাবারের তালিকায় অন্তত দুটো করে দিন রাখা।

সবুজ শাকসবজি

বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া ,ক্যাপসিকাম এগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এছাড়াও বিশেষ গারো সবুজ সবজি ;যেমন- ব্রকলি ,বাঁধাকপি ,ফুলকপি এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে যা আপনার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।এছাড়া বিশেষ খাবারের কথা বলব সেটা হল আখরোট বাদাম যা আমাদের ব্রেনের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।সাথে সাথে আমাদের উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক বেশী কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সামুদ্রিক মাছ

সামুদ্রিক মাছে যে পরিমাণ প্রোটিন আছে তা অন্য কোথাও নেই ।সামুদ্রিক মাছে ওমেগা 3 ফ্যাটি এসিড আমাদের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই উপকারী ।এই উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণের পাশাপাশি আপনি যদি শারীরিক ব্যায়াম করেন আপনার উচ্চতা অবশ্যই বাড়বে।

তেল যুক্ত মাছ

যেগুলো মাছে প্রচুর পরিমাণে তেল থাকে সেসকল মাছ খাওয়ায় চেষ্টা করবেন ।কারণ;তেল যুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ফ্যাটি এসিড ভিটামিন ডি রয়েছে যা আপনার উচ্চতা বৃদ্ধিতে কার্যকারী তবে; যাদের হার্টের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই খাবেন না ।

দুধ 

উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো খাবার ।কারণ রয়েছে সব রকমের সুষম খাদ্যের উপাদান এছাড়াও ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি ইত্যাদি থাকার কারণে আমাদের জন্য খুবই উপকারী খাদ্য ।তাই প্রতিদিন অন্তত এক গ্লাস করে ঘুমানোর আগে দুধ খেয়ে নিবেন ।এতে আপনার উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক কাজে দেবে।

কলা

কলা কলাতে প্রচুর এনার্জি ,ভিটামিন ,মিনারেল সহ অনেক ধরনের ভিটামিন থাকে আমাদের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেকাংশই ভালো প্রভাব ফেলে ।নিয়মিত খাবারে.3-4 টিকলা অবশ্যই খাবেন আপনার শরীরের হাড় গঠনে বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

লম্বা হওয়ার ঔষধ

অনেকেই লম্বা হওয়ার জন্য লম্বা হওয়ার ঔষধ সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গা থেকে খোঁজ নিয়ে থাকেন এবং মনে করেন যে ওষুধগুলো খেলে আপনি দ্রুত লম্বা হয়ে যাবেন।কিন্তু এই ভুলটি কখনো করবেন না কারণ লম্বা হওয়ার যেসব ওষুধ বাজারে বিক্রি হয় সেগুলোর বেশিরভাগই ভিটামিন এবং বিভিন্ন বিভিন্ন উপাদান দিয়ে গঠিত যা আপনার শরীরের জন্য বিশেষ ক্ষতিসাধন করতে পারে।লম্বা হওয়ার বিভিন্ন ঔষধ না খেয়ে আপনারা প্রাকৃতিক খাদ্য গুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন মিনারেলস পাওয়া যাবে এইসব খাবারগুলো খেতে পারেন ।

এছাড়া যদি আপনার মনে হয় আপনি প্রাকৃতিক কোন ওষুধ খাবেন সে ক্ষেত্রে আপনি একটি বিশেষ কার্যকরী ঔষধ অশ্বগন্ধা এগরা খেতে পারে।।অশ্বগন্ধা প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায় সুতরাং এর কোন সাইড ইফেক্ট নাই আপনি দুধের সাথে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খেতে পারে এটি আপনার আহার বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের প্রবলেম আছে তারা অবশ্যই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করবেন ।

এছাড়াও হরমোন ইনজেকশন থেরাপির মাধ্যমে আপনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন ।তবে ;এক্ষেত্রে অনেক সাইড ইফেক্ট আপনার শরীরে দেখা দিতে পারে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা টি আপনারা গ্রহণ করতে পারেন ।যদিও এটি ছোট শিশুদের যাদের ফ্যাক্টর থেমে গেছে তাদের ক্ষেত্রে এটি দেওয়া হয় এছাড়া এটি অবৈধ।

লম্বা হওয়ার ব্যায়াম চিত্রসহ

বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট বয়স পরেও শারীরিক কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে উচ্চতা বৃদ্ধি করা যায় ,যা আমরা লম্বা হওয়ার ব্যায়াম বলেও পরিচিত ।যে ব্যায়ামগুলো করলে আপনার লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে সে গুরুত্বপূর্ণ 10 টি ব্যায়াম গুলো হলঃ

Cat cow pose(ক্যাট কাউ)

এই ব্যায়ামটি করার সময় আপনাকে চার পায়ের জীব যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সেভাবে হাটুগেড়ে হাত সামনে দিয়ে বসতে হবে ।এবং মাথা নিচের দিকে 30 সেকেন্ড এবং আবার 30 সেকেন্ড মাথা উপরে এভাবে এক মিনিট ব্যায়াম করতে হবে ।এটি আপনার স্পাইনাল কর্ড প্রচারের মাধ্যমে আপনার লম্বা হতে সাহায্য করবে।

Pelvic Shift(পেলভিক শিফট)

এই ব্যায়ামটি তে আপনাকে সোজা হয়ে শুয়ে দুই পা-হাত এবং কাদের উপর ভর করে কোমর যতটুকু সম্ভব উপরে ধরে থাকতে হবে ।এটিও 60 সেকেন্ডে এক মিনিট করবেন।

Rope Skipping(রোপ স্কিপিং)

দড়ি লাফ যা আমরা সকলেই পরিচিত ।প্রতিদিন যদি আপনি 5 মিনিট করে এই ব্যায়ামটি করেন আপনার শরীরের পুরো স্ট্রেচিং হওয়ার মাধ্যমে আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে।

Forward Bend(ফরওয়ার্ড বেন্ড)

এই ব্যায়ামটি ও স্ট্রেচিং ব্যায়াম ।সোজা দাড়িয়ে কোমর বাঁকা করে করে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙ্গুল ছোঁয়ার চেষ্টা করবেন ।এতে আপনার কোমরের স্পাইন কার্ড স্ট্রেচিং হবে।

Bar Hanging(বার হ্যাংগিং) 

এই ব্যায়ামটি সাথেও সকালে পরিচিত ।দুই হাত দিয়ে কোন শক্ত বা কোন লোহা জাতীয় দণ্ডের ওপর ভর করে পুরো শরীর ঝুলিয়ে রাখা ।গ্র্যাভিটি'র কারণে এটি আমাদের শরীরকে লম্বা করতে অনেক সাহায্য করবে।

Cobra Stretch(কোবরা স্ট্রেচ)

খুব কার্যকর একটি ব্যায়াম হল কোবরা স্ট্রেচ ।দুই হাতের উপর ভর দিয়ে মেঝে থেকে যতদূর সম্ভব আপনার কোমর টি বাঁকা করুন ।30 সেকেন্ড ধরে রাখার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসুন পুনরায় আবার করুন এভাবে এক থেকে দুই মিনিট করবেন।

Wall Stretch(ওয়াল স্ট্রেচ)

অর্থাৎ দেয়াল ধাক্কা দেওয়া ।আপনি দুই হাত দিয়ে এক পা সামনে দিকে এগিয়ে যত শক্তি আছে সেই শক্তি দিয়ে দেয়াল ধাক্কা দেবেন ।এতে করে আপনার পায়ের স্ট্রেচিং হবে।

Swimming(সুইমিং)

সুইমিং বা সাঁতার গীতা লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর একটি ব্যায়াম। সুতরাং প্রতিদিন চেষ্টা করবেন আধাঘন্টা করে সাঁতার কাটা এটি আপনার পুরো শরীর স্ট্রেচ করতে সাহায্য করবেন।

Forward Spine Stretch(ফরওয়ার্ড স্পাইন স্ট্রেচ)

এই ব্যায়ামটি পা সোজা করে লম্বা হয়ে বসে কোমর বাঁকা করে দুই হাট দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে চেষ্টা করবেন ।আপনার স্পাইন বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকরী ব্যায়াম।

Pilates Roll Over(পাইলেটস রোল ওভার)

এটি সাধারণত দিগবাজি দেয়ার মত ।দুই হাত মাটিতে রেখে কোমর যত পারবেন বাঁকা করে মাথার দিকে নিয়ে যাবেন ।এটিও আপনার শরীরে স্ট্রেচ করতে খুবই সাহায্য করবে।


সুতরাং কিভাবে লম্বা হওয়া যায় এই সম্পর্কে আপনারা সঠিক ধারণা পেয়েছেন এবং লম্বা হওয়ার সম্পর্কে যত প্রশ্ন আপনাদের মনে ছিল সবগুলো আপনারা পেয়ে গেছেন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের ইনফো নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url