আজকের ইনফো https://www.ajkerinfo.com/2022/04/Web3.0-future-internet.html

web 3.0 কি? - ইন্টারনেট এর ভবিষ্যৎ জেনে নিন


গুগল 2009 সালে তার প্রতিটা ইউজার থেকে  36.20$ এবং 2021 সালে ফেসবুক 40.96$  ইনকাম করেছে। যদিও আমাকে ফ্রিতে ইউজ করছে কিন্তু আমরা জানিনা যে আমাদের ইনফর্মেশন থেকে তারা সম্পূর্ণ টাকা পায়।ইন্টারনেটের 43 শতাংশ ব্যবহার করা হয় নেটফ্লিক্স গুগল ,ফেসবুক ,অ্যামাজন মাইক্রোসফট অ্যাপেল এইসব ব্যবহার করতে। পৃথিবীতে যত দেশ আছে যেখানে, আপনার আমার সব ইনফরমেশন স্টোর করা আছে। সেগুলো 50 ভাগ নিয়ে নেয় অ্যামাজন গুগল মাইক্রোসফট ।

বুঝতে পারছেন আমাদের শেয়ারকৃত ইনফর্মেশন এই কোম্পানি গুলোর কাছে আছে। এখন তারা সেই ইনফর্মেশন গুলো দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। যেটা আমরা তাদেরকে দিয়েছে ;কক্সবাজারে আপনি কষ্ট করে ছবি তুলেছেন আপনি কিন্তু ইনকাম করছে কারা তারা । সুতরাং চলুন আজকে এই সমস্যা গুলোর সমাধান web 3.0 নিয়ে কথা বলব-

সূচিপত্রঃ

Web 3.0 কি

web 3.0 হল ডিসেন্ট্রালাইজ ইন্টারনেট যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ডাটা নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারব। যেখানে ইউটিউব গুগোল ফেইসবুক এদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না এবং ইউজাররা তাদের ডাটা ১০০% কন্ট্রোল করতে পারবে । যেখানে প্রতিটা কম্পিউটার মিলে ব্লকচেইন তৈরি করবে একে অপরের সাথে ইনফর্মেশন আদান-প্রদানের মাধ্যমে।মজার ব্যাপার হচ্ছে এইখান থেকে আপনি টাকাও ইনকাম করতে পারবেন।

যদিও সিস্টেমটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি এজন্য এটার কোন ফিক্স সংজ্ঞা নাই। এটার বিভিন্ন নাম আছে যেমন; সিমান্টিক ওয়েব ওয়েব ,ওয়েব অফ থিংস ইত্যাদি।ডেফিনেশন কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেটা অলরেডি আপনাদেরকে বলে দিয়েছি; সেটি ডিসেন্ট্রালাইজড অর্থাৎ গনত্রান্তিক ইন্টারনেট। আরেকটি হলো অনেকগুলো কম্পিউটার ইনফরমেশন সৃষ্টি করবে এবং একটার সাথে আরেকটা কানেক্ট থাকবে।

যে কারণে web 3.0 প্রয়োজন হয়ে উঠলো

ইন্টারনেট ব্যবস্থার মালিকানা

web 3.0 কেন প্রয়োজন হয়ে উঠলো বিশেষ কয়েকটি অসুবিধার কারণে যেমন; আজকের ইন্টারনেট ব্যবস্থাটি কয়েকজন মিলে কন্ট্রোল করা হচ্ছে ধরুন ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করলে youtube-এর যদি পছন্দ না হয় সে চাইলে আপনার ভিডিওটি ডিলিট করে দিতে পারে। কারণ ইউটিউব এর মালিক আপনি নয় ইউটিউব এর মালিক ইউটিউব নিজেই।

ইনফর্মেশন একিই সার্ভারে স্টোর হওয়া

দ্বিতীয় সমস্যাটি হল আমাদের ইনফর্মেশন বা তথ্যগুলি সব গুগোল, ইউটিউব এবং ফেসবুকের কাছে জমা থাকে ।অর্থাৎ যদি তাদের সার্ভার ডাউন হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অসুবিধা হয়ে পরে আমরা আর সেগুলো অ্যাক্সেস করতে পারিনা।যেমন কিছুদিন আগে ফেসবুকের সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে পুরো ওয়ার্ল্ডে মানুষ ফেসবুক অ্যাক্সেস করতে পারছিল না।

প্রাইভেসি সমস্যা

তৃতীয় সমস্যাটি হল প্রাইভেসি সমস্যা অর্থাৎ একটি সার্ভারে যখন সকল তথ্য জমা থাকে তখন হ্যাকাররা খুব সহজেই সেই তথ্যগুলো কে হ্যাক করতে পারে এবং তাদের জন্য সেগুলো সহজ হয়ে পড়ে। এছাড়াও আমাদের সব তথ্য যেহেতু তাদের সার্ভারে জমা থাকে; সেগুলোর ভিত্তিতে তারা আমাদের থেকে বড় অঙ্কের টাকা ইনকাম করছে; আমাদের সাইকোলজি  কাজে লাগিয়েআমাদের আচার-আচরণ সবকিছু ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে।

পেমেন্ট সিস্টেম সমস্যা

চতুর্থ সমস্যাটি হল পেমেন্ট সিস্টেম সমস্যা। যেটা বর্তমানে অনেক বড় সমস্যা যেমন ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই টাকা পাঠাতে পারি না এবং টাকা পাঠানোর প্রসেস অনেক কঠিন ।এছাড়াও আমাদেরকে টাকা পাঠাতে হলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সুতরাং এসব সমস্যার জন্য নিয়ে আসা হবে ওয়েব ৩.০ কে।

web1.0 ,web2.0 এবং web3.0 এর ইতিহাস

web 3.0 এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এটি একটি ডি সেন্ট্রালাইজ নাইস। web2.0 যেটা আমরা ব্যবহার করছি; সেটি ইনফরমেশন গুলো একটি সার্ভারে স্টোর থাকে। কিন্তু web 3.0 তে ইনফরমেশনগুলো অনেকগুলো সার্ভার এর মধ্যে ছড়িয়ে থাকে যেমন আমরা যেগুলো কম্পিউটার ডিভাইস ব্যবহার করি যেমন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, গাড়ি ,এসি ইত্যাদি। এই সবগুলো যে ডাটাগুলো জেনারেট করবে সেখান থেকে আপনি ইউজার হিসেবে বিক্রি করতে পারবেন। আমরা বর্তমানে যেটি ব্যবহার করছি সেটি হল web2.0; যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, জিমেইল ইত্যাদি।

তার আগে যেটি ছিল সেটি হল web 1.0 জেটির অস্তিত্ব ছিল 1989-2005 সাল পর্যন্ত। যদিও  90 দশকের সবচেয়ে রিলায়েবল ইন্টারনেট ছিল কিন্তু সেখানে অনেক কম ইউজার ইন্টারেকশন হত। ইউজার ইন্টারেকশন বলতে যেটা বোঝায় সেটা হল ধরুন আমরা যে ফেসবুকে সার্চ দিতে পারি, কমেন্ট করতে পারি, লাইক করতে পারি কিন্তু web1.0 শুধুমাত্র পড়া ছাড়া কিছুই করতে পারতেন না। এজন্য এটিকে বলা হয় স্ট্যাটিক ওয়েব। আর web2.0 যেটা শুরু হয় 2005 সালে সেটি এখন পর্যন্ত ব্যবহার করে চলছি। এটা ইন্টারনেটকে আরও বেশি ইন্টারেক্টিভ করে কিছু ওয়েব টেকনোলজির মাধ্যমে যেমনঃ java script, html5, css3 ইত্যাদি এবং এর ফলে ইউটিউব, ফেসবুক এবং টুইটার মত কোম্পানি গুলো অনেক বড় পরিসরে আকার ধারণ করে।

web 1.0 এবং web2.0 এর মধ্যে পার্থক্য

web 1.0 এবং web2.0 এর মধ্যে পার্থক্য হল web1.0 তে ইন্টারনেটে কোন কনটেন্ট পড়া যাবে কিন্তু কোন ইউজার সেটিকে আপডেট করতে পারবে না। অপরদিকে web2.0 তে ইউজাররাই তাদের কনটেন্টগুলো ইন্টারনেটে আপলোড করতে পারবে। যেমন ধরুন web 1.0 এর ক্ষেত্রে আপনি কোন সাইটের মালিক হিসেবে শুধুমাত্র আপনি নিজেই কনটেন্ট আপলোড করতে পারবেন অন্যরা শুধুমাত্র পড়তে পারবে কিন্তু আপলোড বা আপডেট করতে পারবেনা।

অন্যদিকে web 2.0 টিতে সম্পূর্ণ উল্টো ভাবে কাজ করে। যেমন ধরেন ইউটিউব; ইউটিউব এর ক্ষেত্রে আমরা কনটেন্ট আপলোড করি। ইউটিউব কিন্তু নিজে থেকে কোন কনটেন্ট আপলোড করেনা। ঠিক তেমনভাবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সবকিছুতেই আপলোড করে থাকি এটিকে বলা হয় UGC(user generated content).

web 2.0 এবং web3.0 এর মধ্যে পার্থক্য

web 3.0 যেটাকে সিমান্টিক ওয়েব বলা হয় যা কম্পিউটারের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে মানুষের মত করে কম্পিউটার ইনফরমেশনগুলো প্রসেস করতে পারবে। web 2.0 তে যেখানে আমরা কনটেন্ট আপলোড করেছিলাম সেখানে web3.0 তে আমাদেরকে আমাদের চাহিদা মত কন্টাক্ট প্রদান করবে। আমার কি দরকার এবং কি চাচ্ছিস এগুলো খুব সহজেই বের করতে পারবে যেমন ধরেন Siri, virtual assistant এগুলো।

web 3.0 ,crypto currency ,metaverse ,blockchain এই সবগুলো একটি আরেকটির সাথে কানেক্টেড।

web 3.0 এর সুবিধা সমূহ

web 3.0 টি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার এর ওপর বেশ করে তৈরি করা হবে। অর্থাৎ যে কেউ চাইলে এটির সোর্সকোড পরিবর্তন করতে পারবে এবং ব্যবহার করতে পারবে। যেমন ধরেন অ্যান্ড্রয়েড যা ওপেনসোর্স কিন্তু অপর দিকে apple iOS কিন্তু ক্লোজ সোর্স। যে কেউ চাইলেই পরিবর্তন করতে পারবে না।web 3.0 হবে ট্রাস্ট লেস এবং পারমিশনলেস অর্থাৎ এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যে কেউ একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। 

এই সিস্টেমটি কারো কাছে সীমাবদ্ধ থাকবে না অর্থাৎ কোন দেশের সরকার গভারমেন্ট এর কাছে।যেমন ধরেন আপনি যদি কাউকে টাকা পাঠাতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে হয় বিকাশ ব্যাঙ্ক বা নগদ এগুলোর মাধ্যমে পাঠাতে হবে এক্ষেত্রে একটি মধ্যস্থ কোন কোম্পানি কাজ করে।কিন্তু ট্রাস্ট পারমিশনলেস সিস্টেমের মাধ্যমে কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন।

এখন আপনাদের মাঝে প্রশ্ন আসতে পারে আমরা যে একে অপরের সাথে ইনফরমেশন শেয়ার করছি বা টাকাপয়সা লেনদেন করব সে ক্ষেত্রে আমাদের কোন প্রাইভেসি থাকেনা বা খুব সহজে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা। আপনি যদি ভেবে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে থাকুন যেহেতু এই ওয়েব ৩.০ ইন্টারনেট ব্লক চেইন এর মাধ্যমে হয়ে থাকে সেজন্য এটিকে হ্যাকারদের ক্ষেত্রে হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব বা খুবই কম।

সুতরাং আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে web 3.0 কেন পাল্টে দিবে আমাদের পুরা ওয়ার্ল্ডকে ।আশা করি আপনাদের ।কাছে টেকনোলজি পোস্টটি অনেক ভালো লেগেছে এবং আপনাদেরকে সমস্ত কিছু বুঝাতে পেরেছি। ধন্যবাদ।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?